Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কী সেবা কীভাবে পাবেন

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

                                                                                                 ১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম এদেশে সরকারী পর্যায়ে গণশিক্ষা কর্মসূচী শুরু হয়।

১৯৮২ সালে এ কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ১৯৮৭  সালে পুনরায় দেশের ২৭ টি নির্বাচিত থানায় পাইলট কার্যক্রম হিসাবে গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।অতঃপর ১৯৯১ সালে ০৩(তিন) বছর মেয়াদী-সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম  নামে  পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রকল্প চালুকরা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কর্মসূচী সুষ্ঠু, সঠিক ও সুন্দর ভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্তে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। পরবতীতে উক্ত বিভাগকে ২০০৩ সালে মন্ত্রণালয়ে উন্নতি করা হয়।

১৯৯১ সালে চালুকৃত সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম প্রকল্প পরবতীতে ১৯৯৭ সাল পযর্ন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এ সময়ে বিস্তৃত পরিসরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচিকে বেগবান করার লক্ষ্যে  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের অধীনে ১৯৯৫ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DNFE) প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

                                  ১৯৯০ সালের মার্চে থাইল্যান্ডের জমতিয়নে অনুষ্ঠিত ‘২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা শীর্ষক বিশ্ব সম্মেলনের’ পাশাপাশি একই বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত’ শিশু অধিকার শীর্ষক বিশ্ব সম্মেলন এবং ১৯৯৩ সালে দিল্লিতে সবার জন্য শিক্ষা(Education for All) শীর্ষক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ০৯টি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যোগদান করে এবং সম্মেলনের ঘোষণায় নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এসবের অনুপ্রেরণা ও অঙ্গীকার থেকে ’সবার জন্য শিক্ষা’ আন্দোলন আরো বেগবান করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অধিদপ্তরের আওতায়  ইনফেপ প্রকল্প, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প -১,২,৩ ও ৪ এর মাধ্যমে ১৮৬.২৪ লক্ষ শিক্ষার্থীকে  সাক্ষরতা প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে ’মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-১’এর কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে।

 

                                 বর্ণিত প্রকল্পের মাধ্যমে ৯.৭১ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ০৯(নয়) মাস ব্যাপী সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষনও প্রদান করা হয়। বর্তমানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে ’শহরের কর্মজীবি শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রকল্প(২য় পর্যায়)’ এবং ’মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২’ নামে  ০২টি(দুই) প্রকল্প চলমান রয়েছে। আরো কয়েকটি প্রকল্প গ্রহনের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

            

                                 ইতোমধ্যে সরকারের এক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ০১ নভেম্বর’২০০৩ সাল হতে উপানষ্ঠিানিক শিক্ষা অধিদপ্তর অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সরকার অধিদপ্তরের পরিবর্তে ১৭ এপ্রিল, ২০০৫ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো গঠন করেন। সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং নিরক্ষর জনবলকে জীবনধর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ০২জানুয়ারি’২০০৬ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নীতি অনুমোদন করে এবং ০৯ ফ্রেব্রুয়ারি’২০০৬ তারিখে সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হয়। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন এবং সরকারের নীতির সফল বাস্তবায়নের নিমিত্তে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সেবা জনগনের জন্য আরো অবারিত সহজলভ্য এবং সুনিশ্চিত করা সহ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন করা হয়েছে।